যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিন দিনের সফরে ভারতে যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক নানা ইস্যুতে চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, সফরের অন্যতম লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমানো এবং সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করা।
রুবিওর সফরের বড় একটি প্রেক্ষাপট হলো আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চারদেশীয় নিরাপত্তা জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক। এই জোটকে এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতীয় তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ বড় কারণ। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে চাপ সৃষ্টি করেছিল। যদিও পরে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে ভারত এখনো রাশিয়ার তেল কিনছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ভারত যেন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ বাড়ায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। এতে ভারত উদ্বিগ্ন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কাশ্মীর ইস্যুতে গত বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর দুই দেশের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন একদিকে ভারতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে পাকিস্তানকেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কাজে লাগাচ্ছে। ফলে ভারসাম্য রক্ষা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রুবিওর সফরকে তাই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য সফর নয়, বরং সম্পর্ক মেরামত ও আঞ্চলিক সমীকরণ সামাল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
















