বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে “আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছে।
এ পর্যন্ত ৩০০টির বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় সবাই ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-এর, শুধু দুটি সংক্রমণ পাওয়া গেছে প্রতিবেশী উগান্ডা-তে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, পরিস্থিতি এখনও মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী “বান্ডিবুগিও ভাইরাস ডিজিজ” বা বিভিডি, যা ইবোলার একটি বিরল ধরন। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অনুমোদিত কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
যদিও কঙ্গো ও উগান্ডায় অতীতে ২০টির বেশি ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, তবে বান্ডিবুগিও ধরনটি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এটি মাত্র তৃতীয়বার।
ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ পরীক্ষার প্রাথমিক নমুনাগুলোতে সংক্রমণের হার অনেক বেশি পাওয়া গেছে এবং প্রতিদিন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
প্রথমে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ভাইরাসটির বিস্তার ধরা পড়ে। অঞ্চলটি উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮৭ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
উগান্ডা শনিবার প্রথম সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। দেশটির রাজধানী কাম্পালার একটি হাসপাতালে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। পরে ডব্লিউএইচও জানায়, কাম্পালায় দ্বিতীয় আরেকটি সংক্রমণও শনাক্ত হয়েছে। দুই রোগীরই কঙ্গো থেকে ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে, তবে তাদের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউএইচও প্রতিবেশী দেশগুলোকে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ প্রধান সড়কে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে বলা হয়েছে।
সংস্থাটি নিশ্চিত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং সংক্রমণের সংস্পর্শে আসার পর অন্তত ২১ দিন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার সুপারিশ করেছে।
তবে ডব্লিউএইচও দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সীমান্ত বন্ধ হলে মানুষ ও পণ্য অনিয়ন্ত্রিত পথে চলাচল করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী রোগ। এতে জ্বর, শরীরব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, দূষিত বস্তু বা মৃতদেহের সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।
















