জিম্বাবুয়ের আবাসন ও কৃষি খাতে প্রবাসীদের বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। আর এই প্রবণতায় বড় ভূমিকা রাখছেন দুই তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা—কুনদাই চিতিমা ও কেলভিন বিরিওতি।
নিজেদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁরা জমি, বাড়ি, কৃষি প্রকল্প ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিও দেখে বিদেশে থাকা বহু জিম্বাবুইয়ান দেশে বিনিয়োগ কিংবা স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর বসবাস করা হিসাবরক্ষক ক্যাথরিন মুতিসি তাঁদের মধ্যে একজন। বিদেশে থাকার সময় তিনি জিম্বাবুয়েতে দুটি বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনা ও একটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে বিরিওটির ভিডিও দেখার পর তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে।
তিনি বলেন, আগে তিনি শুধু পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু ভিডিওগুলো দেখার পর জিম্বাবুয়েতে স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার চিন্তা শুরু করেন।
মুতিসির ভাষায়, আগে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন বাস্তবতা দেখতে পান তিনি।
কেলভিন বিরিওতি উত্তর জিম্বাবুয়ের চিনহোই শহরে বেড়ে ওঠেন। পরে পড়াশোনা ছেড়ে রাজধানী হারারেতে চলে আসেন। সেখানে কনটেন্ট নির্মাতা কুনদাই চিতিমার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবাসন, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু করেন।
বিরিওটির দাবি, প্রবাসীদের অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন। তাই তিনি বাস্তব তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন, যাতে মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারেন।
অন্যদিকে কুনদাই চিতিমা দক্ষিণ আফ্রিকায় শিক্ষকতা করতেন। পরে বৈষম্যমূলক কর্মপরিবেশের কারণে দেশে ফিরে আসেন। সীমিত অর্থ ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেও ধীরে ধীরে কনটেন্ট নির্মাণে যুক্ত হন।
তিনি বলেন, অনেক প্রবাসী কান্নাকাটি করে ফোন করেন, কারণ তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাই তিনি বাস্তবভিত্তিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে রয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ। তরুণদের বেকারত্ব আরও ভয়াবহ, যা ৭৬ শতাংশের বেশি বলে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী সুসান সিবান্দা বলেন, তিনি একের পর এক অস্থায়ী কাজে যুক্ত থেকেও স্থায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। তাই তিনিও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম আয় ও সীমিত সঞ্চয়ের সুযোগের কারণে অনেক জিম্বাবুইয়ান বিদেশমুখী হচ্ছেন।
তবে বিদেশে থাকা জিম্বাবুইয়ানদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৪৫ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। এর বড় অংশ আবাসন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
রিয়েল এস্টেট খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমূল্যের আবাসিক সম্পত্তির প্রায় অর্ধেকই প্রবাসীরা কিনেছেন। কিছু এলাকায় জমির দাম বছরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
কৃষি খাতেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। নতুন কৃষি ইজারার প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ এখন প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের হাতে যাচ্ছে।
তবে দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো অনেক প্রবাসীর মধ্যে দ্বিধা রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। ফলে অনেকে বিনিয়োগ করলেও স্থায়ীভাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন জিম্বাবুয়েকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। আর কুনদাই চিতিমা ও কেলভিন বিরিওটির মতো কনটেন্ট নির্মাতারা প্রবাসীদের চোখে দেশের সম্ভাবনার নতুন ছবি তৈরি করছেন।
















