যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এক মার্কিন বিশ্লেষক।
মতামতধর্মী এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেইজিংয়ের ওপর আস্থা রাখা উচিত নয়।
বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা সংলাপকে মূলত প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানোর সুযোগ হিসেবে দেখে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষক ক্রিস ম্যাকগুয়ারের মতে, চীনের সঙ্গে যেকোনো সংলাপ শুধুমাত্র নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে হবে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন এত দ্রুত উন্নত হচ্ছে যে এটি ভবিষ্যতে সাইবার হামলা, সামরিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে মাত্র আট মাস পিছিয়ে রয়েছে। বেইজিং মনে করে, তারা এই ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে পারবে।
এ কারণে চীন উন্নত মার্কিন প্রযুক্তি সংগ্রহে আগ্রাসী কৌশল নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত চিপ পাচার, প্রযুক্তি অনুকরণ এবং বিভিন্ন বিকল্প পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিস ম্যাকগুয়ারের মতে, চীন অতীতেও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান ছিল এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে তাদের রেকর্ড দুর্বল।
তিনি দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সম্ভাব্য কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিকেও বেইজিং মূলত কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখবে।
বিশ্লেষণে তিনটি সম্ভাব্য পথের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র চীনের অনুরোধ মেনে প্রযুক্তি রপ্তানির বাধা কমাতে পারে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে পারে। তৃতীয়ত, বড় কোনো বৈশ্বিক সংকটের জন্য অপেক্ষা করতে পারে, যা চীনকে সহযোগিতায় বাধ্য করবে।
লেখকের মতে, দ্বিতীয় পথই সবচেয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল কৌশল।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে এবং বিদ্যমান ফাঁকফোকর বন্ধ করে দেয়, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দুই দেশের ব্যবধান আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন এখনো ব্যাপকভাবে মার্কিন কম্পিউটিং শক্তি ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
লেখকের মতে, ট্রাম্পের লক্ষ্য হওয়া উচিত তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে কার্যকর চুক্তির পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, সংলাপ চললেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সীমিত রাখতে সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখা।
















