ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘আল খারাইতিয়াত’ নামের এই ট্যাংকার কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যাত্রা করে পাকিস্তানের পোর্ট কাসিমের দিকে যাচ্ছে।
এই যাত্রা সফল হলে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কোনো কাতারি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যে সরকারিভাবে হওয়া জ্বালানি চুক্তির আওতায় এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান এই চালানের অনুমোদন দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরির অংশ হিসেবেই তেহরান এই অনুমতি দিয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সীমিত সংখ্যক এলএনজি ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
এরপর ইরান সহযোগিতায় সম্মত হয় এবং প্রথম জাহাজটির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে দুই পক্ষ সমন্বয় করছে।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এই জাহাজটি পরিচালনা করছে কাতারের একটি শিপিং প্রতিষ্ঠান। জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় দুই লাখ বারো হাজার ঘনমিটার।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কাতারের দুটি এলএনজি ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালীর কাছে থামিয়ে দিয়েছিল। তখন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জাহাজগুলোকে অবস্থান ধরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
কাতার বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। এর বেশিরভাগ জ্বালানি সরবরাহ যায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
সাম্প্রতিক হামলায় কাতারের প্রায় সতেরো শতাংশ এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পুরোপুরি মেরামতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
















