ভারতের অস্থির মণিপুরে চলমান জাতিগত সংঘাতে নতুন করে জড়িয়ে পড়েছে মিয়ানমারভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি তারা ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কামজং জেলায় প্রবেশ করে কয়েকটি নাগা গ্রামে হামলায় অংশ নেয়।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, মিয়ানমারের কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা এবং ভিলেজ ভলান্টিয়ার ইস্টার্ন জোন যৌথভাবে সাত মে তিনটি তাংখুল নাগা গ্রামে হামলা চালায়।
হামলার সময় নামলি গ্রামের এক নারী অলিনা নিংশেনকে অপহরণ করা হয়। পরে আসাম রাইফেলসের চাপের মুখে শনিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় আসাম রাইফেলস ও গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে ওই নারীকে মুক্ত করা হয়।
মুক্তির পর তার পরিবার, গ্রামের প্রধান ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সাত মে ভোরে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের জেড চোরো ও নামলি এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয় বলে জানিয়েছে আসাম রাইফেলস। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, হামলায় অন্তত দশটি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এক নারী আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া নারী ও শিশুসহ পনেরো জন গ্রামবাসীকে উদ্ধার করে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আহত নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযানের সময় লালথাংজন নামে কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মার এক সশস্ত্র সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, গুলি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
অন্যদিকে ভিলেজ ভলান্টিয়ার ইস্টার্ন জোন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, দুই মে কামজং জেলার লাঞ্চাহ গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই অভিযান চালিয়েছে।
সংগঠনটির অভিযোগ, নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্য ও মিয়ানমারভিত্তিক কিছু সশস্ত্র উপাদান কুকি গ্রামগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততা মণিপুরের সংঘাতকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে।
















