জ্বালানি খাতে মিথেন গ্যাসের নির্গমন কমাতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সহজ হবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রভাবও কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল, গ্যাস ও কয়লা খাত থেকে মানবসৃষ্ট মোট মিথেন নির্গমনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে। তবে এই নির্গমন কমাতে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
মিথেন গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি। এটি বায়ুমণ্ডলে তুলনামূলক কম সময় থাকলেও স্বল্প সময়ে তাপমাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মিথেন নির্গত হচ্ছে, যার বড় অংশ তেল ও গ্যাস খাত থেকে আসে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রান্না ও জ্বালানির জন্য ব্যবহৃত জৈব জ্বালানি থেকেও কিছু নির্গমন হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অস্থিরতার কারণে। এতে তেল ও গ্যাসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি তেল ও গ্যাস খাতে মিথেন নির্গমন কমানো যায়, তাহলে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে, যা বাজারে চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
এছাড়া অপ্রয়োজনীয় গ্যাস পোড়ানো বন্ধ করতে পারলেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা এবং বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে নির্গমন কমানোর কার্যকর উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিথেন নির্গমন কমানো শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নির্গমন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
















