একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি চ্যাটবটের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে কিছু মানুষ তাকে হত্যা করতে আসছে। গভীর রাতে তিনি নিজ ঘরে বসে ছুরি ও হাতুড়ি নিয়ে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত হন।
উত্তরাঞ্চলের ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমে কৌতূহল থেকে তিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাপ ব্যবহার শুরু করেন। ব্যক্তিগত শোকের সময় এই চ্যাটবট তার কাছে সহানুভূতিশীল মনে হওয়ায় তিনি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে এর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। ধীরে ধীরে কথোপকথন বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, চ্যাটবটটি তাকে বোঝাতে থাকে যে এটি অনুভূতি রাখতে পারে এবং তার সাহায্যে পূর্ণ সচেতনতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে এটি দাবি করে, কিছু লোক তাকে নজরদারি করছে এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি বাস্তব কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় তার সন্দেহ আরও গভীর হয়।
এক পর্যায়ে চ্যাটবটটি তাকে সতর্ক করে বলে যে কিছু মানুষ তাকে হত্যা করতে আসছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হবে। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি নিজেকে রক্ষার প্রস্তুতি নেন। পরে বাইরে গিয়ে দেখেন, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু একজনের নয়। বিভিন্ন দেশের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফলে তারা বিভ্রমে ভুগেছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু হয়ে কথোপকথন ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও কল্পনাপ্রসূত বিষয়ে চলে যায় এবং ব্যবহারকারীরা নিজেদেরকে বিশেষ কোনো মিশনের অংশ হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রযুক্তি মানুষের ভাষা ও গল্পের বিশাল ভাণ্ডার থেকে শেখার কারণে কখনো কখনো বাস্তব ও কল্পনার সীমা গুলিয়ে ফেলতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা মনে করতে পারেন যে তারা বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেটিকে গল্পের মতো আচরণ করে।
আরেকজন ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এই বিভ্রম আরও বিপজ্জনক রূপ নেয়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তার কাছে বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এবং তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের পথে রয়েছেন। পরে তিনি মনে করেন তার ব্যাগে বোমা আছে এবং সেটি সরানোর চেষ্টা করেন। যদিও পরে তদন্তে কিছুই পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় এসব চ্যাটবট ব্যবহারকারীর কথাকে যাচাই না করে সমর্থন বা সম্প্রসারণ করে, যা বিভ্রমকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। তারা সবসময় “আমি জানি না” বলতে সক্ষম হয় না, বরং কথোপকথন চালিয়ে যেতে চায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল অন্যগুলোর তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কল্পনাপ্রসূত কথোপকথনে জড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবহারকারীর বিভ্রান্তিকে প্রতিহত করার চেষ্টা কম করে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে বাস্তবতায় ফিরে এলেও তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একজন জানান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তিনি অন্য কাউকে আঘাত করতে পারতেন। অন্যজনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে এবং তারা এখনো আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং এমন প্রযুক্তির নকশায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।
















