ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গোপন এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট প্রযুক্তি পাচার করে তথ্যপ্রবাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এই কার্যক্রমে জড়িত এক ব্যক্তি জানান, একজন মানুষও যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, তাহলেই তাদের প্রচেষ্টা সফল বলে মনে করেন তারা।
নিজের পরিচয় গোপন রেখে তিনি জানান, বিদেশে অবস্থান করেও তিনি ইরানে থাকা পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের ঝুঁকির কথা ভেবে সব সময় আতঙ্কে থাকেন। কারণ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা দেশটিতে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
গত কয়েক মাস ধরে ইরানে কার্যত ইন্টারনেট অচল অবস্থায় রয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে নজরদারি, গুপ্তচরবৃত্তি বা সাইবার হামলা প্রতিরোধ করা যায়। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এতে সাধারণ মানুষের তথ্যপ্রাপ্তি মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট যন্ত্র একটি বিকল্প হিসেবে দেখা দিয়েছে। ছোট আকারের এই যন্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি উপগ্রহের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়, ফলে দেশের নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ককে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। একটি যন্ত্র ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন।
জানা গেছে, গোপন এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা বিভিন্ন উপায়ে এসব যন্ত্র সংগ্রহ করে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করান। তবে নিরাপত্তার কারণে তারা বিস্তারিত পদ্ধতি প্রকাশ করেন না। ইতোমধ্যে কয়েক ডজন যন্ত্র পাঠানো হয়েছে এবং আরও পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
আইন অনুযায়ী, এসব যন্ত্র ব্যবহার বা বিক্রি করলে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবুও দেশে এর চাহিদা বাড়ছে এবং বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে এর লেনদেন চালু রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্যপ্রবাহে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা সরকারপন্থী প্রচারণাকে শক্তিশালী করে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্বে তুলে ধরার সুযোগ কমে যায়।
এই কারণেই অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন। তাদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ তারা মনে করেন এটি একটি প্রয়োজনীয় সংগ্রাম।
















