যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে স্যাটেলাইটভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নতুন সুযোগ তৈরি করছে, বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য। তবে উচ্চ খরচ এবং রাজনৈতিক বাধার কারণে এই সুবিধা এখনও সবার নাগালে পৌঁছায়নি।
উপকূলীয় শহর মুকাল্লায় একটি সৃজনশীল কর্মস্থলে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। তাদের প্রধান আকর্ষণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নয়, বরং দ্রুতগতির নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, যা তাদের বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সহায়তা করছে।
এই ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে ডিজাইনার, সফটওয়্যার নির্মাতা, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করতে পারছেন এবং দেশের দুর্বল অর্থনীতির তুলনায় বেশি আয় করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, আবার কোথাও নিয়ন্ত্রণের কারণে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায় না। নতুন স্যাটেলাইট সেবা এসব সীমাবদ্ধতা আংশিকভাবে দূর করেছে।
তবে এই সেবা ব্যবহার করা সহজ নয়। একটি যন্ত্র কিনতে প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়, যা দেশের অধিকাংশ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে অনেকেই সরাসরি ব্যবহার করতে না পেরে অন্যদের কাছ থেকে সীমিত সুবিধা নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী এই সেবার বিরোধিতা করছে এবং ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবুও ধীরে ধীরে এই সেবা দেশের দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। আগে যেখানে গ্রামে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত, এখন অনেকেই সেখান থেকেও কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন।
শিক্ষকরাও এর সুফল পাচ্ছেন। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে তারা বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারছেন, ফলে তাদের আয়ের নতুন পথ তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যারা এই দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের কাছে এটি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, পুরনো ধীরগতির সংযোগে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য বড় ধাক্কা হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন প্রযুক্তি ইয়েমেনে ডিজিটাল কর্মসংস্থানের একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তবে তা এখনও সীমিত মানুষের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
















