নির্বাচনে পরিবর্তনের আশা কম, হতাশা বাড়ছে জনগণের মধ্যে
দখলদারিত্ব ও প্রশাসনের প্রতি অনাস্থায় ভোটারদের আগ্রহ কম
পশ্চিম তীরে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন তাদের বাস্তব জীবনে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারবে না।
নাবলুসের কাছাকাছি কুসরা এলাকার বিদায়ী মেয়র হানি ওদেহ বলেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেও তিনি মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত সম্পদের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই তাদের কৃষিজমিতে যেতে পারছেন না। পানির পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ নিত্যদিনের সমস্যাগুলো সমাধানহীন থেকে যাচ্ছে।
প্রায় পাঁচ বছর পর এই স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জাতীয় নির্বাচন হয়নি বহু বছর ধরে। ফলে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে।
অনেক ভোটার মনে করছেন, নতুন প্রার্থী এলেও পুরোনো ধাঁচের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। ফলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ কমে গেছে।
কিছু এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটও হচ্ছে না। একক প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে অনেক কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিয়েছে।
তরুণ ভোটারদের একটি অংশ প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার আশা প্রকাশ করলেও অধিকাংশই হতাশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর পরিবর্তন না আসায় নির্বাচনের প্রতি বিশ্বাস কমে গেছে।
ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের অভিযোগ, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে কিন্তু সেবা উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হতাশা শুধু প্রশাসনের প্রতি নয়, বরং সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতিও অনাস্থা তৈরি হয়েছে। দখলদারিত্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং সীমিত ক্ষমতার কারণে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনকে অনেকেই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, যেখানে ভোট হলেও বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
















