বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়তে থাকায় নতুন জোট গঠন, বড় শক্তিগুলোর অনুপস্থিতিতে প্রশ্নও উঠছে
প্রথমবারের মতো একদল দেশ একত্র হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে ত্যাগের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যেখানে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনগুলো এতদিন ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সান্তা মার্তা শহরে প্রায় ৬০টি দেশ এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে, যারা বিশ্বে মোট জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।
এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কলম্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজেরিয়া, তবে বড় অর্থনীতি যেমন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত এই আলোচনায় নেই।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে (কপ) সিদ্ধান্ত নিতে সব দেশের সম্মতি প্রয়োজন হয়, যার ফলে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো কার্যত ভেটো ক্ষমতা পেয়ে যায়—এবং অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়ে।
গত বছর কপ৩০ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার রোডম্যাপ নিয়েও ঐকমত্য হয়নি, যা অনেক দেশের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করলে খরা, বন্যা, দাবানল ও তাপপ্রবাহের মতো বিপর্যয় আরও তীব্র হবে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন এই বৈঠককে “ইচ্ছুক দেশগুলোর জোট” হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে আরও দেশকে যুক্ত করতে পারে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে এবং শক্তির স্বনির্ভরতা বাড়াতে চাইছে।
এই উদ্যোগটি জাতিসংঘ প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়, বরং সেটিকে নতুন গতি দেওয়ার চেষ্টা—যাতে ভবিষ্যতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
















