সংঘাত ও সহিংসতায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে, বাড়ছে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে প্রকাশিত নতুন বৈশ্বিক খাদ্য সংকট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৬ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গাজা উপত্যকা এবং সুদানের কিছু এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে—যা একসঙ্গে দুই জায়গায় প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিতে রয়েছে, যা ওই এলাকার মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
এছাড়া দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, হাইতি এবং মালিতেও চরম খাদ্য সংকটের চিত্র দেখা গেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯টি দেশে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ সংঘাতের কারণে খাদ্য সংকটে পড়েছে—যা মোট ক্ষুধার্ত মানুষের অর্ধেকেরও বেশি।
অন্যদিকে, জলবায়ুজনিত চরম আবহাওয়া প্রায় ৮ কোটি ৭৫ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করেছে এবং অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ কোটি মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি শিশু মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়া প্রায় ৯২ লাখ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীও তীব্র অপুষ্টির শিকার।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০২৬ সালেও বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
















