বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসা বা পুনরায় আলোচনার পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষাপটে করা সমঝোতা এখন প্রশ্নের মুখে
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যে পরিস্থিতির চাপে এই চুক্তি করা হয়েছিল, তা এখন আর আগের মতো নেই।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত জরুরি ক্ষমতার আইনের আওতায় আরোপিত ব্যাপক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই রায়ের ফলে সেই চাপের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে, যার কারণে বাংলাদেশকে দ্রুত চুক্তিতে যেতে হয়েছিল।
বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, চুক্তিটি এমন এক পরিস্থিতিতে করা হয়েছিল যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর শুল্ক আরোপের আশঙ্কা দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু সেই আইনি কাঠামো এখন টিকে না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কেন এই শর্তগুলো মেনে চলবে।
চুক্তির শর্তগুলো শুধু শুল্ক নয়, বরং বাজার কাঠামো, নীতিমালা ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে একই ধরনের চুক্তিকে অকার্যকর ঘোষণা করে নতুন অবস্থান নিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনও অন্যান্য আইনি উপায় রয়েছে চাপ প্রয়োগের জন্য, তবে সেগুলো আগের মতো দ্রুত বা সর্বব্যাপী নয়। ফলে বাংলাদেশ এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনা করতে পারে।
এ অবস্থায় সরকারের সামনে দুটি পথ রয়েছে—চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করা অথবা নতুন শর্তে পুনরায় আলোচনায় বসা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় চুক্তির শর্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অসম চুক্তির বোঝা বহন করতে না হয়।
















