চীন-উত্তর কোরিয়া হুমকির পাশাপাশি মার্কিন প্রতিশ্রুতি নিয়েও উদ্বেগে প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তন
জাপান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে, ‘দক্ষিণ ঢাল’ নামে নতুন সামরিক কৌশল গড়ে তুলে দক্ষিণাঞ্চলে অস্ত্র ও বাহিনী মোতায়েন বাড়িয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে যুদ্ধ ত্যাগের নীতি গ্রহণের পর এটি জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি কিউশু দ্বীপে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে জাপান, যা প্রয়োজনে চীন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, “যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি জাপান।”
এই কৌশলের অংশ হিসেবে জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দ্বীপগুলোতে অস্ত্র, বিমান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জ, যা তাইওয়ানের খুব কাছাকাছি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাপান এখন “কাউন্টারস্ট্রাইক” সক্ষমতা অর্জনের দিকেও এগোচ্ছে—অর্থাৎ আক্রমণের জবাবে পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষমতা, যা দেশটির সংবিধানের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে আরও প্রসারিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু চীনের উত্থান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-এর নিরাপত্তা সুরক্ষার ওপর আস্থা কমে যাওয়াও এই পরিবর্তনের বড় কারণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির কারণে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৭ শতাংশ জাপানি নাগরিক মনে করেন, সামরিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে রক্ষা নাও করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জাপান এখন ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়া-র মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকিও জাপানের এই কৌশলগত পরিবর্তনের একটি বড় কারণ।
















