হংকং, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দেখাচ্ছে কার্যকর সংস্কারের পথ
বাংলাদেশে টেকসই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন
বিশ্বজুড়ে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার প্রধান কারণই দুর্নীতি। এই প্রেক্ষাপটে এশিয়ার কয়েকটি দেশ কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।
হংকং একসময় অত্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত ছিল। পরে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় পরিষদের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশকে জনজবাবদিহির আওতায় আনা হয়। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি সেবার মানও উন্নত হয়।
সিঙ্গাপুরেও একসময় সরকারি ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি ছিল। তবে মেধাভিত্তিক নিয়োগ, উচ্চ বেতন, কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার, প্রশাসনের পুনর্গঠন এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দেশটি দ্রুতই দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনে রূপ নেয়।
দক্ষিণ কোরিয়া দুর্নীতি দমনে একটি ভিন্নধর্মী পথ অনুসরণ করে। ১৯৬০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে তারা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করে। পাশাপাশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ সততা যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়, যা অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে একটি গভীর সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক সংস্থার সূচকে দেশটি এখনো সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা শুধু বিস্তৃতই হয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি শ্বেতপত্রের মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয় এবং তা মোকাবিলায় বিভিন্ন সুপারিশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা এবং একই সঙ্গে এশিয়ার সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সততা যাচাই ব্যবস্থা চালু করলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দুর্নীতিমুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। তাই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
















