বিদেশে না গিয়েও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ বাড়ছে
দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তায় খুলতে পারে আয় ও কর্মসংস্থানের নতুন পথ
বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে অভিবাসনের ধারণাও। আগে যেখানে অভিবাসন মানেই ছিল বিদেশে গিয়ে কাজ করা, এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে বসেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, যা পরিচিত ‘ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন’ নামে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও অনলাইন শ্রমবাজারের বিকাশ এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছে। এখন অনেক মানুষ ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করে আয় করছেন, যা উন্নয়নশীল দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই প্রবণতা আরও গতি পায়। লকডাউনের কারণে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরে বসে কাজ শুরু করে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বুঝতে পারে যে দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালানো সম্ভব। ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর পরিবর্তে অনলাইনেই নিয়োগের প্রবণতা বাড়ে।
তবে ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং এবং ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন এক নয়। ফ্রিল্যান্সিং সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ও প্রকল্পভিত্তিক কাজ, যেখানে স্থায়িত্ব কম। আউটসোর্সিংয়ে কাজ একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হয়। আর ভার্চুয়াল মাইগ্রেশনে একজন কর্মী নিজ দেশে থেকেই সরাসরি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেন।
ভারতের মতো দেশে এই পদ্ধতি দক্ষ জনশক্তির দেশত্যাগ কমাতে সহায়তা করছে। ফিলিপাইনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অনলাইনে কাজ করে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক আয় করছে। রোমানিয়াতেও দূরবর্তী কাজের প্রসার তরুণদের দেশে থেকেই বৈশ্বিক বাজারে কাজের সুযোগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী সুযোগ। বৈশ্বিক সংঘাত ও অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশে কাজ করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন নিরাপদ ও কার্যকর বিকল্প হতে পারে, যেখানে মানুষ পরিবারে থেকে আয় করতে পারে।
দেশের তরুণরা গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও সম্পাদনা, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাহকসেবা, অনলাইন শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা, হিসাবরক্ষণসহ নানা খাতে কাজ করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই এসব দক্ষতা অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে ইংরেজিসহ বিদেশি ভাষা শেখা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করে।
তবে এই খাতকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ। গ্রামীণ তরুণ, নারী, ফেরত অভিবাসী ও বেকারদের লক্ষ্য করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা যেতে পারে।
সরকার চাইলে একটি জাতীয় ডিজিটাল কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, যেখানে দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রবাসী কল্যাণ, শিক্ষা ও শ্রম খাতকে এক ছাতার নিচে এনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে ভার্চুয়াল মাইগ্রেশন বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী শ্রমবাজারে রূপ নিতে পারে।















