ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং নিয়োগ বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়েছেন যে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রবণতা স্থির হয়ে গেছে। বিশেষ করে নতুন স্নাতকদের জন্য প্রাথমিক স্তরের চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
তরুণদের জন্য বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সুনাক বলেন, আইন, হিসাবরক্ষণ ও সৃজনশীল খাতের মতো সেবা-নির্ভর পেশাগুলোতে তরুণদের চাকরি পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কম কর্মী নিয়েই কাজ চালাতে পারছে, কারণ তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ধারণা এখন “কম কর্মী দিয়েই বেশি কাজ সম্ভব”, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনাক ধীরে ধীরে জাতীয় বীমা কর তুলে দিয়ে কর্পোরেট মুনাফার ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে কোম্পানিগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়বে, যা থেকে কর আদায় সম্ভব।
প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার জরুরি
সুনাক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন মানুষের কাজ কেড়ে না নেয়, বরং কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে—এমন ব্যবহারের দিকে জোর দিতে হবে। এজন্য সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অনেক দেশকে কর্মসংস্থানভিত্তিক কর কমে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুনভাবে অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বেগ ও সম্ভাবনা একসঙ্গে
যদিও তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনায় আস্থা রাখেন, তবুও তরুণদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগকে যৌক্তিক বলে মনে করেন। তার মতে, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।















