নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের বেনীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক বছর ধরে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যার প্রায় ৪০ শতাংশই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। তবে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুজন শিক্ষককে পুরো স্কুল সামলাতে হচ্ছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাফ জানায়, শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত সব বিষয়ে ক্লাস হয় না। বড় ক্লাসে যখন পাঠদান চলে, তখন অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা হইচই করে, যা পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায়। সহকারী শিক্ষক ফয়সাল হোসেন বলেন, একসাথে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালানো অত্যন্ত কঠিন। একজন শিক্ষক দিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদ হোসাইন জানান, দাপ্তরিক কাজে তাঁকে প্রায়ই উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পড়ে একজন শিক্ষকের ওপর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্কুলে কোনো অফিস সহায়ক বা পিয়ন নেই। ফলে পাঠদানের পাশাপাশি স্কুলের আনুষঙ্গিক কাজও আমাদের করতে হয়। দ্রুত অন্তত দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়টিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
















