বাংলাদেশে এক সময়ের সাধারণ শিশু রোগ হাম এখন নতুন করে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। যেখানে বিশ্বের অনেক দেশ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, সেখানে দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ভারত-এ সংক্রমণ থাকলেও মৃত্যুহার প্রায় শূন্যে নামানো গেছে। পাকিস্তান ও নেপাল-এও টিকাদান কর্মসূচির ফলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।
শ্রীলঙ্কা ও ভুটান হাম নিয়ন্ত্রণে সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে মালদ্বীপ প্রায় শতভাগ টিকাদানের মাধ্যমে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান-সহ উন্নত দেশগুলোতে বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ থাকলেও মৃত্যুহার প্রায় নেই। ব্রাজিল ও মেক্সিকো-তেও টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশে বিভিন্ন বিভাগে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা বিভাগ-এ সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগ-এর পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে।
রাজশাহী বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, সিলেট বিভাগ, রংপুর বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগ-এও সংক্রমণ ও জটিলতা বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সংক্রামক রোগ হাসপাতাল মহাখালী-এ রোগীর চাপ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংকটের সম্ভাব্য কারণ
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জনসচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ ও গাভি-র সঙ্গে সমন্বয় শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
করণীয় কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী টিকাদান জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় টিকাকেন্দ্র স্থাপন, হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
জনসচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিলে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।















