মলদোভা-এর বহুল আলোচিত “শতাব্দীর বৃহত্তম চুরি” হিসেবে পরিচিত ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় দেশটির প্রভাবশালী ধনকুবের ভ্লাদ প্লাহোতনিউক-কে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
২০১৪-১৫ সালে সংঘটিত এই জালিয়াতিতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়, যা সে সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশের সমান ছিল।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, প্লাহোতনিউক ব্যক্তিগতভাবে এই জালিয়াতি থেকে চার কোটি ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছেন এবং তাকে প্রায় ছয় কোটি ডলার রাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবী জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত বিমান কেনা, সম্পত্তি ক্রয়, ভ্রমণ, চিকিৎসা ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
এই জালিয়াতির ঘটনায় মাত্র দুই দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়, যেগুলোর প্রকৃত মালিকানা অজানা ছিল। ফলে ব্যাংকগুলো রক্ষায় সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়।
পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায়, এই অর্থের একটি বড় অংশ রুশপন্থী আরেক ধনকুবের ইলান শোর-এর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে যায়।
২০১৯ সালে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্লাহোতনিউক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রিসের এথেন্সে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে মলদোভায় ফেরত আনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব ব্যবহার করে একটি জালিয়াতি চক্র পরিচালনা করেছিলেন এবং ব্যাংক খাতে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা চলমান থাকলেও তিনি সব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।















