রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় নির্মিত ৪০ তলা বাণিজ্যিক স্কাইস্ক্র্যাপার ‘পিনাকল’ গত শনিবার (১৯ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড। প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতার এই ভবনটি ঢাকায় আধুনিক করপোরেট অবকাঠামোর একটি নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং শহরের স্কাইলাইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার মনির উদ্দিনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্মিত এই ভবনটি দেশের বাণিজ্যিক স্থাপত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসহ বড় করপোরেট সংস্থাগুলোর জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে।
‘পিনাকল’ ভবনটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিড প্ল্যাটিনাম সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। এতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনএফপিএ-এর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। উন্নত ফায়ার ডিটেকশন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভবনটির নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করেছে।
ভবনের কাঠামোগত নকশা করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান মেইনহার্ট। ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়েছে। এছাড়া উচ্চতল ভবনের স্থায়িত্ব যাচাইয়ে ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল।
নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আধুনিক অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি তলার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এটি দেশের নির্মাণ খাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবনের ভেতরে রয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব কুলিং সিস্টেম, উন্নত বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা এবং আটটি উচ্চগতির লিফট। পাশাপাশি সমন্বিত বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ভবন পরিচালনাকে আরও দক্ষ ও স্মার্ট করেছে।
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন হিসেবে কুষ্টিয়ায় অবস্থিত বিআরবি কেবল টাওয়ার আগে থেকেই পরিচিত। তবে রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক স্কাইস্ক্র্যাপার হিসেবে ‘পিনাকল’ একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে। বিশেষ করে করপোরেট ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় দ্রুত বাড়তে থাকা করপোরেট অফিস স্পেসের চাহিদা পূরণে ‘পিনাকল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও সহায়ক হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো ব্যবসায়িক আস্থাকে শক্তিশালী করে।
সব মিলিয়ে, ‘পিনাকল’ ভবনটি বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রকল্প দেশের নগর উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















