ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে হাঙ্গেরির এলজিবিটিকিউবিরোধী আইন ইউরোপীয় আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। আদালত জানিয়েছে, এই আইন একাধিক ক্ষেত্রে ইউনিয়নের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইউরোপীয় আদালতের এই মামলাটি ইউরোপীয় কমিশন, একাধিক সদস্য দেশ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের যৌথ উদ্যোগে করা হয়, যা ব্লকের ইতিহাসে অন্যতম বড় মানবাধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ২০২১ সালে এই আইন প্রণয়ন করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এটি শিশুদের সুরক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে পরে এতে এমন বিধান যুক্ত করা হয়, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সমকামিতা প্রচার নিষিদ্ধ করে।
এই আইনের ফলে বিভিন্ন বই, নাটক ও চলচ্চিত্র নিষিদ্ধ করা হয়। সমালোচকদের মতে, এটি এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং তাদের সামাজিকভাবে হেয় করে।
গত বছর এই আইন আরও কঠোর করা হয় এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রাইড মিছিল কার্যত নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তবে ব্যাপক জনসমর্থনের কারণে হাজার হাজার মানুষ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিছিলে অংশ নেয়।
ইউরোপীয় আদালত রায়ে বলেছে, এই আইন মানব মর্যাদা, সমতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, কোনো দেশ জাতীয় পরিচয়ের অজুহাতে এমন আইন প্রণয়ন করতে পারে না যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলনীতির বিরোধী।
ইউরোপীয় কমিশন এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে এবং হাঙ্গেরি সরকারকে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন নেতৃত্ব ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে যেখানে ভিন্ন পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না।
সব মিলিয়ে, এই রায় ইউরোপে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে চলমান বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















