ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের ৫৪তম দিনে এসে নতুন করে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শেষের জন্য একটি প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। তবে একই সঙ্গে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ চালু থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হলেও অন্যদিকে চাপ অব্যাহত থাকছে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী এবং এই অবস্থায় তারা আলোচনায় বসবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অবরোধকে সরাসরি যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীও সতর্ক করে বলেছে, আঞ্চলিক কোনো দেশ থেকে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনায় সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায়নি, তবে চাপের মধ্যে আলোচনা করতে রাজি নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই পথে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দূত পর্যায়ের আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম দেশটির ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ। অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে, যদিও সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং এতে আঞ্চলিক নতুন জোট গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমেনি। কূটনীতি ও সামরিক চাপ পাশাপাশি চলায় সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
















