ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে ইরাকে ডলার পাঠানো স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন অর্থ বিভাগ সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চালান আটকে দেয়। এই অর্থ ইরাকের তেল বিক্রির আয় থেকে আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত ছিল।
এটি চলমান সংঘাতের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডলার সরবরাহ স্থগিত করা হলো। ওয়াশিংটন চায়, ইরাক ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করুক।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকের ভেতরে মার্কিন স্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচিও স্থগিত করেছে এবং প্রয়োজন হলে সামরিক হামলাও চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের পর দেশটির তেল আয়ের বড় অংশ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক-এ সংরক্ষণ করা হয়। এর ফলে ইরাকের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বেড়ে যায়।
প্রতিবছর এই অর্থ নগদ ডলার হিসেবে ইরাকে পাঠানো হতো, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চান, অন্যদিকে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চান না—এমন একটি জটিল ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ডলার সরবরাহ বন্ধের এই পদক্ষেপ ইরাককে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন অবস্থানে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















