মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলীয় চিহুয়াহুয়া অঙ্গরাজ্যে এক সড়ক দুর্ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দেশটিতে বিদেশি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি এজেন্টদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় সংবিধান বা জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত দুই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-এর সদস্য হতে পারেন। তবে তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দাবি করেছে, ওই সময় মেক্সিকান নিরাপত্তা বাহিনী কেবল তাদের বিমানবন্দরে পৌঁছে দিচ্ছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে উপস্থিত থাকার খবর সামনে আসায় মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকোর মাদকচক্র দমনে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন, যা মেক্সিকো স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম আবারও বলেছেন, যৌথ স্থল অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানসহ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হবে।
সব মিলিয়ে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















