গোলাগুলি, ধ্বংস আর আতঙ্কের মাঝেও সংগীত থামেনি—এমনই এক গল্প তুলে ধরেছে সুদানের জনপ্রিয় ব্যান্ড আসওয়াত আলমাদিনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে ছড়িয়ে পড়লেও তারা এখনও গানকে বাঁচিয়ে রেখেছে শান্তির আশায়।
২০১৪ সালে রাজধানী খার্তুম-কে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে যাত্রা শুরু করে এই ব্যান্ড, যার অর্থ “শহরের শব্দ”। তাদের সংগীতে মধ্যপ্রাচ্যের লোকজ ধারা, নগর পপ এবং জ্যাজের মিশেল দেখা যায়।
২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ব্যান্ডের সদস্যরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিধ্বস্ত হয়ে অনেকেই দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কোটি মানুষের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ব্যান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কণ্ঠশিল্পী ইব্রাহিম মাহমুদ বলেন, “অস্ত্রের শব্দ ছিল খুব জোরে, কিন্তু সংগীতও সবসময় চলছিল।” তিনি যুদ্ধের মাঝেও গান লেখা ও রেকর্ড করা চালিয়ে গেছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে গান করার কারণে অতীতেও তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। তার ভাষায়, “সত্য কথা গাওয়ার জন্য আমাকে অনেকবার আটক করা হয়েছিল।”
বর্তমানে ব্যান্ডের সদস্যরা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন—কেউ মিশরে, কেউ সৌদি আরবে। তবুও তারা দূর থেকে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন এবং নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে সুদানের সৌন্দর্য ও বেদনার গল্প তুলে ধরা হবে।
তাদের গান একসময় সুদানের গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ২০১৯ সালে সাবেক শাসক ওমর আল-বশির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আন্দোলনে তাদের গান ছিল মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে।
ব্যান্ড সদস্যদের মতে, সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি মানুষের আশা ও টিকে থাকার শক্তি। যুদ্ধের বিভীষিকার মাঝেও তারা বিশ্বাস করেন, গানই একদিন শান্তি ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
তাদের আশা, একদিন আবার সবাই একসঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাইতে পারবেন—একটি শান্ত, সহনশীল সুদানের জন্য।
















