ভারতের বিভিন্ন শহরে আধুনিক মেট্রোরেল নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করা হলেও প্রত্যাশিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ফারাকই এর মূল কারণ।
দেশটির আর্থিক রাজধানী মুম্বাই-এ নতুন চালু হওয়া আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যাকোয়া লাইনে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ যাত্রী চলাচলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে যাত্রী সংখ্যা তার এক-দশমাংশের মতো। অনেকেই বলছেন, ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ এই সেবা কম ব্যবহার করছেন।
গত এক দশকে ভারত সরকার প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে প্রায় দুই ডজন শহরে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। এই সময়ে মোট নেটওয়ার্ক চার গুণ বেড়ে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি হয়েছে। যাত্রী সংখ্যাও বেড়েছে, তবে পরিকল্পিত লক্ষ্যের তুলনায় তা এখনও অনেক কম।
গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ শহরে প্রকৃত যাত্রী সংখ্যা পরিকল্পিত লক্ষ্যের মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ। কিছু শহরে এই হার আরও কম। যেমন, কানপুরে মাত্র ২ শতাংশ এবং চেন্নাইয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ যাত্রী পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদনের সময় যাত্রী চাহিদা অনেক ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিতভাবে দেখানো হয়। ট্রেনের সংখ্যা, কোচের পরিমাণ বা চলাচলের সময়সূচি বাস্তবে সেই মানে পৌঁছায় না।
অন্যদিকে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়াও একটি বড় কারণ। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য মেট্রো ভাড়া আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয়ে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি।
এছাড়া শেষ মাইল সংযোগের অভাব, যেমন পর্যাপ্ত বাস বা সহজ যাতায়াতের সুবিধা না থাকা, যাত্রী কম হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক ক্ষেত্রে এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যেতে সময় বেশি লাগে, যা যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করে।
নারীদের নিরাপত্তা ও হাঁটার উপযোগী অবকাঠামোর ঘাটতিও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে স্টেশন থেকে বাসা পর্যন্ত যাতায়াত অনেকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যানজট, দূষণ এবং পার্কিং সমস্যার কারণে ভবিষ্যতে মেট্রোর ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন ভাড়া কমানো, পরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় এবং সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করা।
তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ছাড়া শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই প্রত্যাশিত সাফল্য আসবে না।
















