সমঝোতার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় মতপার্থক্য
ইসলামাবাদ আলোচনায় জটিলতা বাড়তে পারে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই নিজেদের “বিজয়ী” দাবি করলেও বাস্তবে যুদ্ধবিরতির পেছনে দুপক্ষই কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে সরে এসেছে, যা সামনে আলোচনায় বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে।
দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ দিনের সংঘাতের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়, আর ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল চালু করতে সম্মত হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা যতটা দৃঢ় দেখাচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়।
ইরানের অবস্থানের পরিবর্তন
প্রথমদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল তারা কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে না এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া কিছু মানবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে এবং আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়া আগে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সরাসরি দাবি করলেও এখন তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত করার মতো কঠোর শর্ত দিয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান চুক্তিতে এসব শর্ত স্পষ্টভাবে নেই। বরং ইরান প্রণালীর ওপর কিছু নিয়ন্ত্রণ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আগে যুক্তরাষ্ট্র মানতে চাইছিল না।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা
ইরান চায় তারা নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চায়।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি তুলে নেওয়ার দাবি ইরানের, যা ওয়াশিংটনের জন্য প্রায় অসম্ভব।
লেবানন ইস্যুও বড় জটিলতা তৈরি করেছে। ইরান চায় তাদের মিত্রদের ওপর হামলাও বন্ধ হোক, কিন্তু ইসরায়েল তা মানছে না এবং হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামীতে কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মূলত সময় কেনার একটি কৌশল। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায় এবং আলোচনায় আরও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবে।
ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় এসব বিরোধ আবার সামনে আসবে এবং চূড়ান্ত সমঝোতা করা সহজ হবে না।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, প্রকাশ্যে “বিজয়” দাবি করা হলেও বাস্তবে কেউই পুরোপুরি জেতেনি—বরং উভয় পক্ষই কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আপস করেছে, যার ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।
















