মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জেট জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট কমানো এবং ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের জাতীয় এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেট জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি টনের দাম ছিল প্রায় ৮৩১ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৮৩৮ ডলারে। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
সাধারণত এয়ারলাইন্সের মোট খরচের ২০ থেকে ৪০ শতাংশই জ্বালানিতে ব্যয় হয়। তাই জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে টিকিটের দামে এবং ফ্লাইট পরিচালনায়।
বিশ্বের অনেক এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে কিছু রুটে ফ্লাইট কমিয়েছে এবং ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
নিউজিল্যান্ডের এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, কিছু রুটে ফ্লাইট বাতিল করা হবে এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে দূরত্বভিত্তিক জ্বালানি চার্জ চালু করেছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটেও অতিরিক্ত চার্জ বাড়িয়েছে।
এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য বড় এয়ারলাইন্সও একই পথে হাঁটছে। কেউ ফ্লাইট কমাচ্ছে, আবার কেউ টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আগের নির্ধারিত দামে জ্বালানি কিনে রাখায় আপাতত চাপ সামাল দিতে পারছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তারাও সমস্যায় পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে আরও বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং ভাড়া বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।
তবে আপাতত বড় ধরনের জ্বালানি সংকট না থাকলেও মে মাসের পর পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















