যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে।
বুধবার ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও শান্তি প্রচেষ্টার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের অনুরোধেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যায়, যাতে তেহরান একটি “সমন্বিত প্রস্তাব” প্রস্তুত করতে পারে।
পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকও ইসলামাবাদে হওয়ার কথা ছিল।
তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নেয়, তাহলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। এই অবস্থানেই আটকে আছে পরবর্তী সংলাপ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে হরমুজ প্রণালী আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়া হোক, যা গত ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই জলপথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয় এবং ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও পরবর্তী আলোচনা কবে হবে—তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই এখন একে অপরের ওপর চাপ তৈরি করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।
















