এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সমঝোতা আসে এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি প্রণালী খুলে না দেয় তবে ভয়াবহ পরিণতি হবে। এরপরই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয় এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখবে, যদি ইরান প্রণালী খুলে দেয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখে। তাদের দাবি, সামরিক লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে, তাই আপাতত যুদ্ধবিরতি সম্ভব।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাহাজ চলাচল অনুমোদন দেবে এবং একটি বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। এতে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত এবং পুনর্গঠনের ক্ষতিপূরণের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে যাবে না।
যুদ্ধবিরতি শুধু ইরান নয়, লেবাননসহ কিছু এলাকায় কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও ইসরায়েলের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দেশটির নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চালু থাকতে পারে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং পাল্টাপাল্টি হামলার খবরও পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা নির্দেশ করে।
পরবর্তী ধাপে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তানে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য থাকায় স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু তা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বাস্তব সমঝোতায় রূপ নেবে কিনা, তা নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনার ওপর।
















