যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হয়ে আফ্রিকার গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-এ পৌঁছানো দক্ষিণ আমেরিকার অভিবাসীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যদিও সেখানে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ১৫ জন অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী জানিয়েছেন, কঙ্গোতে পৌঁছানোর পর তাদের সামনে বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফেরার সম্মতি দিতে বলা হচ্ছে।
কলম্বিয়া, পেরু ও ইকুয়েডরের কয়েকজন নারী জানিয়েছেন, তারা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এক কলম্বিয়ান নারী বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত ‘তৃতীয় দেশ’ চুক্তির আওতায় কঙ্গোতে পাঠানো হয়। এই নীতির মাধ্যমে অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের কোনো সম্পর্ক বা পরিচিতি নেই।
বহিষ্কৃতদের মধ্যে কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। তাদের দাবি, নিজ দেশে নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা পালিয়ে এসেছিলেন।
একজন নারী জানান, তাকে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণ ও নির্যাতন করেছিল এবং তার সাবেক স্বামী, যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তার কাছ থেকেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে পুনরায় নির্যাতনের ঝুঁকি ছিল।
আরেক নারী বলেন, তাকে যাত্রার মাত্র একদিন আগে জানানো হয় যে তাকে কঙ্গোতে পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টার যাত্রায় তাদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ধরনের তৃতীয় দেশভিত্তিক বহিষ্কার নীতি মূলত অভিবাসীদের ভয় দেখানোর কৌশল। তাদের এমন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে যেখানে তারা অপরিচিত পরিবেশে পড়ে বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির ফলে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই এসব গন্তব্য দেশে সংঘাত বা নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান।
















