ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মূল কারণ এবং এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। এমন অবস্থার মধ্যেও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চালিয়ে যায়, তাহলে কোনো অর্থপূর্ণ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক অবরোধ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করার পরিস্থিতি বজায় রেখে যুদ্ধবিরতির কথা বলা অর্থহীন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, তারা সামরিক শক্তি বা চাপ প্রয়োগ করে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-ও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, আলোচনার পথই সমাধান, চাপ ও হুমকি নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকিই প্রকৃত আলোচনার প্রধান বাধা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা জানান। এই অবরোধের প্রতিবাদে পাকিস্তানে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে তেহরান।
জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক সমাধানের জন্য ইরান আলোচনায় প্রস্তুত আছে।
বর্তমানে পরিস্থিতিকে “না যুদ্ধ, না শান্তি” অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন বিশ্লেষকরা। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগে।
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকায় আবারও এটি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ওই প্রণালীতে দুইটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, অবরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় আবার সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















