২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নারীর অধিকারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে
বিভিন্ন ধর্মীয় প্রথা ও নারীর প্রবেশাধিকারের বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেবে নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালার সাবরিমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়ে ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনগুলোর শুনানি শুরু করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ শুধু এই মামলাই নয়, বরং অন্যান্য ধর্মীয় প্রথা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিবেচনা করবে।
এই শুনানিতে পারসি উপাসনালয়ে নারীদের প্রবেশ, মুসলিম মসজিদে নারীদের অধিকার, ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা কাউকে সমাজচ্যুত করার ক্ষমতা এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের বৈধতা নিয়েও নির্দেশনা আসতে পারে।
২০১৮ সালের রায়ে আদালত সাবরিমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাকে বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। আদালত বলেছিল, ধর্ম পালনের অধিকার নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ঋতুমতী নারীদের অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় আচার থেকে দূরে রাখা হয়। সাবরিমালা মন্দিরে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, যেখানে শুধু অল্পবয়সী মেয়ে ও প্রবীণ নারীরা প্রবেশ করতে পারেন।
ভগবান অয়্যাপ্পাকে উৎসর্গীকৃত এই মন্দিরে প্রতি বছর লাখো ভক্ত সমাগম হয়, যাদের বেশিরভাগই পুরুষ।
তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করা নারীদের বাধা দেওয়া হয়, এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটে।
পরে আদালতে একাধিক পুনর্বিবেচনা আবেদন জমা পড়ে। ২০১৯ সালে সাত সদস্যের বেঞ্চ গঠন করা হলেও পরে বিষয়টির পরিধি বাড়িয়ে আরও বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যু যুক্ত করা হয়।
২০২০ সালে নয় সদস্যের নতুন বেঞ্চ গঠন করা হলেও মহামারির কারণে শুনানি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সম্প্রতি আবার নতুন করে এই শুনানি শুরু হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নারীদের প্রবেশাধিকার ও মৌলিক অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।
মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে ধর্মীয় প্রথায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। শুনানি আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
















