যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও অশালীন ভাষার হুমকির জবাবে বিশ্বজুড়ে ইরানি দূতাবাসগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা শুরু করেছে। এতে কূটনৈতিক ভাষার পরিবর্তে রসিকতা, বিদ্রূপ ও তীক্ষ্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প যে বার্তা দেন, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে সরাসরি পাল্টা হুমকি না দিয়ে ইরান ভিন্ন কৌশল নেয়।
বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসগুলো সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রসিকতা ছড়িয়ে দেয়। জিম্বাবুয়েতে ইরানি দূতাবাস এক পোস্টে জানায়, তারা “চাবি হারিয়ে ফেলেছে”—যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা, বুলগেরিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ইরানি মিশন একই ধারায় মন্তব্য করে, কখনো ইঙ্গিতপূর্ণ রসিকতা, কখনো রাজনৈতিক খোঁচা দিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে।
কিছু পোস্টে ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা কোনো প্রেসিডেন্টকে অযোগ্য ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
লন্ডনে ইরানি দূতাবাস সাহিত্যিক ভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি কবিতা ও উদ্ধৃতি শেয়ার করে, যেখানে নেতৃত্বে বিচক্ষণতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অস্ট্রিয়ায় ইরানি মিশন ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘১৮ বছরের নিচে অনুপযুক্ত’ বলে উল্লেখ করে সতর্কতা দেয় এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তুলে ধরে।
এছাড়া বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক কার্টুনও শেয়ার করা হয়, যেখানে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনলাইন প্রচারণা সরাসরি সামরিক উত্তেজনার জবাবে একটি কূটনৈতিক কৌশল, যেখানে ইরান সংঘাতের ভাষা না বাড়িয়ে ব্যঙ্গের মাধ্যমে বার্তা দিতে চেয়েছে।
তবে একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুধু সামরিক নয়, তথ্য ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।
















