বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের প্রত্যাবর্তন সফর ঘিরে উন্মাদনার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে বহু ভক্ত হাজার হাজার ডলার হারাচ্ছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ২৬ বছর বয়সী ভক্ত ভিভি (ছদ্মনাম) জাকার্তায় বিটিএসের কনসার্টের টিকিট সংগ্রহের জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইনে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পুনর্বিক্রেতার কাছ থেকে চারটি ভিআইপি টিকিটের জন্য প্রায় ১,২০০ ডলার পরিশোধ করেন। অর্থ পাঠানোর পরই বিক্রেতা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রতারণায় এখন পর্যন্ত এক লাখ ডলারেরও বেশি ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। থাইল্যান্ডে ১২৬ জন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে এক ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে তাদের হয়ে টিকিটের লাইনে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু টাকা নেওয়ার পর উধাও হয়ে যায়।
সিঙ্গাপুর পুলিশ জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে বিটিএস কনসার্টের টিকিট সংক্রান্ত অন্তত ৬২টি প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। মালয়েশিয়াতেও অনুরূপ ঘটনায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
তিন বছরের বিরতির পর শুরু হওয়া বিটিএসের ‘আরিরাং ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে। ৩৪টি শহরে অনুষ্ঠিতব্য এই সফর থেকে ব্যান্ড এবং তাদের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হাইব প্রায় ২০০ কোটি ডলার আয় করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় টিকিটের চাহিদা আসনের সংখ্যার তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ বেশি বলে জানা গেছে। বিপুল চাহিদার কারণে আয়োজকরা অতিরিক্ত শোর তারিখও যুক্ত করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চাহিদা, সীমিত টিকিট এবং ভক্তদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ভুয়া রিভিউ, নকল নথি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য পরিচয় ব্যবহার করে ভক্তদের ফাঁদে ফেলছে।
টিকিটমাস্টার জানিয়েছে, টিকিট কালোবাজারি ও বট প্রতিরোধে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত উৎস থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে সব হতাশার মধ্যেও ভিভির গল্পের শেষটা সুখের। কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তিনি সরকারি বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম থেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
















