কানাডায় সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া বন্দুক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত, নানা সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯৮৯ সালে মন্ট্রিয়ালে এক ভয়াবহ হামলার পর থেকেই দেশটিতে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হয়। পরে ২০২০ সালের আরেকটি বড় হামলার পর সরকার প্রায় আড়াই হাজার ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
এই নিষিদ্ধ অস্ত্রগুলো নাগরিকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার জন্য সরকার একটি ক্রয় কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় অস্ত্র জমা দিলে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। অনেক বৈধ অস্ত্রধারী এতে আস্থা পাচ্ছেন না, আবার কিছু প্রদেশ এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট বিস্তৃত নয়। অনেক ধরনের অস্ত্র এখনও এর আওতার বাইরে রয়ে গেছে, যা পুরো উদ্যোগটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। সেখানে তিনি নিজেই কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিশেষ করে যখন অধিকাংশ অপরাধ অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সংঘটিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে এ ধরনের কর্মসূচি সফল হয়েছিল কারণ সেগুলো দ্রুত এবং সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু কানাডায় এই উদ্যোগটি বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এই আইন বৈধ শিকারি ও খেলাধুলার জন্য অস্ত্র ব্যবহারকারীদের ওপর অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, প্রকৃত সমস্যা হলো অবৈধ অস্ত্র ও মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা।
কিছু প্রদেশ যেমন আলবার্টা ও সাসকাচেওয়ান এই কর্মসূচি কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলছে, অস্ত্রধারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এটি তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ অস্ত্র পাচার রোধে মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।
তবুও জনমত জরিপে দেখা যায়, কানাডার অধিকাংশ মানুষ কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। দেশটির আইন অনুযায়ী অস্ত্র কিনতে হলে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ এবং কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সরকার জানিয়েছে, সমালোচনা সত্ত্বেও তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার অস্ত্র স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং রায় না আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, কানাডার এই বন্দুক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগটি জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলেও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা ও মতবিরোধের কারণে তা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে হোঁচট খাচ্ছে।
















