জার্মানিতে নতুন আইনের আওতায় ১৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষদের দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে সামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান চালু করা হয়েছে।
নতুন এই আইনটি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার হুমকি বিবেচনায় এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আইন অনুযায়ী, তিন মাসের বেশি সময় বিদেশে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগে থেকেই অনুমতি নিতে হবে। যদিও সাধারণত এই অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে নিয়ম ভঙ্গ করলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো একটি কার্যকর সামরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে জানা যায় কে কোথায় অবস্থান করছে।
এই বিধানের আইনি ভিত্তি ১৯৫৬ সালের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইনে রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। আগে এই ধরনের তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক ছিল শুধুমাত্র জাতীয় জরুরি অবস্থা বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে।
নতুন আইনের মাধ্যমে জার্মানির সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার সদস্য থাকা বাহিনীকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ১৮ বছর বয়সী নাগরিকদের কাছে একটি প্রশ্নপত্র পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তারা স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবায় আগ্রহী কিনা তা জানাতে বলা হচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে তাদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালু হবে।
নারীরা চাইলে স্বেচ্ছায় সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন, তবে তাদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।
যদিও বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে সামরিক সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হলে বা পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক না পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক সেবার বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হতে পারে।
এই আইন অনুমোদনের পর অনেক তরুণ প্রতিবাদও করেছেন। তাদের মতে, তারা সামরিক প্রশিক্ষণে বাধ্য হতে চান না এবং দীর্ঘ সময় ব্যারাকে কাটাতে আগ্রহী নন।
উল্লেখ্য, জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ২০১১ সালে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটি আবারও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে।
















