কম্বোডিয়ায় স্থলমাইন শনাক্ত করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ইঁদুরের সম্মানে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। দেশটির সিয়েম রিপ শহরে স্থানীয় পাথর দিয়ে নির্মিত এই ভাস্কর্যটি সম্প্রতি উন্মোচন করা হয়।
মাগাওয়া নামের এই ইঁদুরটি কয়েক বছর ধরে কাজ করে শতাধিক স্থলমাইন ও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে। ২০১৬ সালে কাজ শুরু করে সে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিপজ্জনক এলাকা পরিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ইঁদুর বিস্ফোরকের গন্ধ শনাক্ত করতে পারত এবং সেই অনুযায়ী মানব কর্মীদের সতর্ক করত। পরে সেগুলো নিরাপদভাবে অপসারণ করা হতো।
তার কর্মজীবনে মাগাওয়া প্রায় এক লাখ ৪১ হাজার বর্গমিটার এলাকা নিরাপদ করতে সাহায্য করে, যা প্রায় ২০টি ফুটবল মাঠের সমান। দ্রুতগতিতে বড় এলাকা অনুসন্ধানের দক্ষতা তাকে বিশেষভাবে আলাদা করেছে।
তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে তাকে একটি স্বর্ণপদক দেওয়া হয়, যা প্রাণীদের জন্য বিরল সম্মান। ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ইঁদুর এই ধরনের পুরস্কার অর্জন করে।
বয়সের কারণে অবসর নেওয়ার পর ২০২২ সালে মাগাওয়ার মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভাস্কর্য শুধু একটি প্রাণীর সম্মাননা নয়, বরং কম্বোডিয়ায় এখনও বিদ্যমান স্থলমাইনের ঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরে।
এ ধরনের প্রশিক্ষিত ইঁদুর মানুষের তুলনায় নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে, কারণ তাদের ওজন কম হওয়ায় মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে না।
কম্বোডিয়া সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে স্থলমাইনমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, মাগাওয়ার স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্য মানবিক কাজে প্রাণীর অবদানের এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















