ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দ্রুতগতিতে ড্রোন উৎপাদন বাড়ানো এবং কৌশলগত আঘাতের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং কিছু দখলকৃত এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
সাম্প্রতিক তিন মাসে রাশিয়ার অগ্রগতির হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেন উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যেখানে ড্রোন প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এসব দেশ আধুনিক যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতায় আগ্রহী।
সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি বলেন, ড্রোন ব্যবহারের হার বৃদ্ধি ইউক্রেনের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়িয়েছে। মার্চ মাসে ড্রোন দিয়ে হামলা ও লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সংখ্যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। তার মতে, বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট অস্ত্র কেনাকাটা গত বছরের অর্ধেকের বেশি হয়ে গেছে এবং বছর শেষে তা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে কম খরচে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে, যা বড় অস্ত্রের ব্যবহার কমাচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন ইতোমধ্যে ৪৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও একটি গবেষণা সংস্থা কিছুটা কম এলাকা নিশ্চিত করেছে, তবুও তারা বলছে প্রকৃত অগ্রগতি আরও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল রপ্তানি অবকাঠামোতেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বাল্টিক সাগরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর লক্ষ্য করে হামলার ফলে রাশিয়ার প্রায় ৪০ থেকে ৪৩ শতাংশ তেল রপ্তানি সক্ষমতা কমে গেছে। এতে রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যয়ের অর্থ সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই হামলার ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহও ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইউক্রেন শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, রাশিয়ার অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় একটি বিস্ফোরক কারখানায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতাকে প্রায় ৪৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।
এদিকে রাশিয়া তাদের ড্রোন হামলার কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে। এখন তারা শুধু রাতেই নয়, দিনে-রাতেও হামলা চালাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক পাল্টা আঘাত রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে এবং যুদ্ধের গতিপথে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
















