ইরানকে “স্টোন এইজে ফিরিয়ে দেওয়ার” হুমকি দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন ভাষা ও কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হুমকি নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন যুদ্ধে এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালানো হবে এবং দেশটিকে “স্টোন এইজে” পাঠানো হবে। এর কিছুক্ষণ পর প্রতিরক্ষামন্ত্রীও একই ধরনের বক্তব্য দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, “স্টোন এইজে পাঠানো” বলতে সাধারণত ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে একটি দেশের আধুনিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া বোঝায়। এতে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ। তাই এ ধরনের হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগেও এমন বক্তব্য পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা উত্তর ভিয়েতনামকে “স্টোন এইজে ফিরিয়ে দেওয়ার” কথা বলেছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়, যাতে অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়।
১৯৭২ সালে উত্তর ভিয়েতনামের বিভিন্ন শহরে বড় আকারের বিমান হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া ও লাওসেও বোমাবর্ষণ করা হয়, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কুয়েত দখলের পর ইরাককে সতর্ক করে বলা হয়, তারা সরে না গেলে দেশটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোটবাহিনী ইরাকে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ করে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। কোরিয়া যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়ার অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০১ সালের পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুমকির কথা সামনে আসে। তখন পাকিস্তানকেও যুদ্ধ সহযোগিতা না করলে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হুমকি শুধু একটি দেশের সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এতে যুদ্ধের নীতিমালা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে আরও সহিংসতার পথ খুলে দিতে পারে।
















