ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান, যদিও তারা স্বীকার করেছে যে এই পথে নানা বাধা রয়েছে।
ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান আলোচনার পথ তৈরি করতে কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে অর্থবহ সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে পাকিস্তান সক্রিয় রয়েছে।
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুমকি দিয়েছেন এবং এর জবাবে তেহরানও পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান বহু দেশকে নিয়ে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার লক্ষ্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে আনা। আন্দ্রাবি দাবি করেন, দুই দেশই পাকিস্তানের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর আস্থা রাখছে।
এই আস্থার ইঙ্গিত হিসেবে ইরান পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তান এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তান, চীনসহ কয়েকটি দেশ যৌথভাবে একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন। এই উদ্যোগকে আঞ্চলিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা এমন আলোচনার আয়োজক হতে প্রস্তুত।
তবে ইরান এখনো সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের নীতিগত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের উরুমকি শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে, যেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পাকিস্তান বলছে, তারা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায়, তবে নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করতে আফগানিস্তানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনার এই সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
















