লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান হামলায় দেশটির স্বাস্থ্যখাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে অন্তত ৫৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে ৮৭টি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলাগুলো শুধু অবকাঠামো ধ্বংস করছে না, বরং মানুষকে তাদের বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। চিকিৎসাসেবা না থাকায় দক্ষিণাঞ্চল ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সরাসরি হামলার শিকার হচ্ছে এবং অনেক চিকিৎসাকর্মী এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়ছে।
টাইর শহরের একটি হাসপাতাল একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলের হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় ক্যানসার, ডায়ালাইসিসসহ গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এছাড়া চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হচ্ছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কারণ যুদ্ধের সময় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনার কোনো জবাবদিহি না থাকায় এ ধরনের হামলা বেড়ে চলেছে। এর ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে লেবাননে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে।
















