লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে আরও সেতু ধ্বংসের হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। তাদের দাবি, এসব সেতু সশস্ত্র গোষ্ঠীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব সেতু ধ্বংস করা হলে দক্ষিণ লেবানন এবং পশ্চিম বেকা উপত্যকা দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে যাবে।
ইতোমধ্যে লিতানি নদীর ওপর অন্তত ছয়টি সেতু ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। বিশেষ করে সেতু, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য জরুরি স্থাপনা ধ্বংস করা মানবিক সংকটকে তীব্র করে তুলছে।
এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় লেবাননের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ফলে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
শুক্রবারের হামলায় দেশজুড়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একটি ঘটনায় মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়ে দুজন নিহত হন।
চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩৪৫ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। সীমান্তবর্তী একটি স্থানে বিস্ফোরণে তিনজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং পুরো অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মুখে পড়বে।
















