পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে দেশবাসীকে গণতন্ত্রের ধারণা ভুলে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গণতন্ত্র তাদের দেশের জন্য উপযোগী নয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি লিবিয়ার পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।
ত্রাওরের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন তার সরকার ইতোমধ্যে দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করেছে। এর আগে সংসদ কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন বাতিল করা হয়।
ক্ষমতায় আসার পর ত্রাওরে প্রথমে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সম্ভব নয়।
২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার মুখে রয়েছে। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে, ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল।
সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনাকারী রাজনীতিক, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেককে জোরপূর্বক সামরিক অভিযানে পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো দেশটিকে গণতান্ত্রিক কাঠামো থেকে আরও দূরে সরিয়ে নিচ্ছে।
বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও মালি—এই তিনটি দেশ সম্প্রতি আঞ্চলিক জোট ত্যাগ করে নতুন জোট গঠন করেছে এবং পশ্চিমা প্রভাব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
এদিকে সহিংসতা ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক।
পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
















