বিশ্বব্যবস্থা বর্তমানে একক প্রভাবকেন্দ্রিক কাঠামো থেকে বহুমুখী শক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়া এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতাভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি পশ্চিমা ও অ-পশ্চিমা উভয় শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগস্থলে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে। আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হওয়ায় দেশটি এশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন সমঝোতা গড়ে তুলছে।
সম্প্রতি নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে দেশটি কোনো নির্দিষ্ট শক্তির বিপক্ষে অবস্থান না নিয়ে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করা।
ইন্দোনেশিয়ার নেতৃত্ব একই সময়ে বিভিন্ন বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে পৃথক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। জ্বালানি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও একটি দেশ নিজস্ব স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে একাধিক শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। এই কৌশল উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
















