ইয়েমেনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও গত চার বছরে প্রায় ১,২০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩৯ শিশু নিহত এবং ৮৪৩ শিশু আহত হয়েছে। অনেকেই গুরুতর আঘাতে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, শিশু হতাহতের প্রায় অর্ধেকই স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের কারণে ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এসব বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
যদিও যুদ্ধবিরতির পর সামগ্রিক সহিংসতা কমেছে, তবে শিশুদের ওপর এর প্রভাব এখনও গভীর। বিশেষ করে খেলাধুলার স্থান, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমিতে এসব বিস্ফোরক থাকায় শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের সরাসরি সংঘর্ষ কমলেও শিশুদের জন্য বিপদ শেষ হয়নি। তারা প্রতিদিন এমন পরিবেশে বসবাস করছে, যেখানে যে কোনো সময় প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
বিস্ফোরণে আহত অনেক শিশু স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে, কারও অঙ্গহানি হচ্ছে, আবার কেউ মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাচ্ছে।
এর পাশাপাশি মানসিক প্রভাবও গুরুতর। অনেক শিশু ভয়, উদ্বেগ ও দুঃস্বপ্নে ভুগছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
















