২০১৯ সালের হিরাক গণআন্দোলনের সাত বছরের বেশি সময় পর আজ (২ জুলাই) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন আলজেরিয়ার নাগরিকরা। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু ৪০৭ সদস্যের পার্লামেন্ট গঠনের জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক সংস্কার, জনসম্পৃক্ততা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও।
দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ (ANIE) জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে বসবাসকারী মিলিয়ে প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ নিবন্ধিত ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৩ শতাংশ ভোটার অংশ নেওয়ায় এবারও ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন এই নির্বাচনকে ‘নতুন আলজেরিয়া’ গঠনের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিভিন্ন ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (FLN) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক র্যালি (RND)-এর পাশাপাশি ইসলামপন্থী মুভমেন্ট অব সোসাইটি ফর পিস (MSP), বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন। ২০২১ সালের নির্বাচন বর্জনকারী কয়েকটি বিরোধী দল এবার ভোটে অংশ নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কিছুটা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতি এবার নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি, আবাসন, বিনিয়োগ এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিভিন্ন দল। তবে তেল ও গ্যাস রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা আলজেরিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
















