গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ভূমি দখল এবং বসতি সম্প্রসারণের কার্যক্রম নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা করেছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থায়ী কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব নির্মাণকাজ স্থাপনাটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করবে। একই সঙ্গে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে সেখানে মুসলিমদের আজান দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ জানান, উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে তিনটি নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কংক্রিটের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল সম্প্রসারণ করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA)।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে, যা ওই সময়ে নিহত মোট মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ। কমিশনের মতে, শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো গণহত্যার অভিপ্রায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তবে ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ২৪১ ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, জবাবদিহির অভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা বেড়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিতে গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাত্র এক-চতুর্থাংশেরও কম এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে।
















